পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা ও আশপাশের এলাকায় টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের পুরাতন পঞ্চগড়ের চৌরঙ্গী মোড় ও মিলগেট এলাকায় লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন কয়েকশ মানুষ। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই নেসকোর ধাক্কামারা বিসিক ও কমলাপুর ফিডারের লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। বিকেলে ধাক্কামারা এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে মেরামতের সময় শাহীন নামে এক লাইনম্যান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা নেমে আসে। বিশেষ করে পানির সংকটে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। মসজিদ ও বাসাবাড়িতে পানি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অবরোধে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার কারণে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেব শর্মা জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাদের কর্মীরা কাজ করছেন।
অন্যদিকে পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মাজহারুল আলম বলেন, তাদের লাইনে কোনো সমস্যা নেই। অবরোধের পর নেসকো কারিগরি সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠানো হয়েছে।
পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের আশ্বাসে প্রায় চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আবারও আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।


