অন্বেষণ ডেস্ক : ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরে নিজেদের নৌবাহিনীর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সাবমেরিন হাঙ্গর বুঝে পেয়েছে পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার চীনের সানিয়া বন্দরে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পিএনএস/এম হাঙ্গর’ নামের এই যুদ্ধযানটি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়।
এই সাবমেরিন হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে সম্পূর্ণ নতুন একটি মাইলফলক রচিত হলো। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে যে, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এই সাবমেরিনটি পাকিস্তান ও চীনের দীর্ঘদিনের অটুট সামরিক বন্ধুত্বের একটি অনন্য নিদর্শন। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যেকার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে।
সাবমেরিনটির কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তিনি এই বিশাল ও তাৎপর্যপূর্ণ অর্জনকে দেশের সামরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে জোরালোভাবে অভিহিত করেন।
তাছাড়া, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তার দেওয়া বক্তব্যে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, নিজেদের মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একইসাথে সমুদ্রসীমার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান এখন সম্পূর্ণ সক্ষম ও প্রস্তুত।
অন্যদিকে, এই বিশেষ আয়োজনে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী নৌ-বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
ফলে উদ্ভূত এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান যে, হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনগুলো মূলত আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে একটি টেকসই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনা করলে এই নতুন যুদ্ধযানটি অত্যন্ত আধুনিক, নিখুঁত এবং শক্তিশালী হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এতে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উন্নত সেন্সর সিস্টেম, যা অনেক দূর থেকেই শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
এর পাশাপাশি সাবমেরিনটিতে বিশেষ ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন’ বা সংক্ষেপে এআইপি প্রযুক্তি সফলভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই অভাবনীয় উন্নত প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিনটি প্রচলিত অন্য যেকোনো সাধারণ সাবমেরিনের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে একটানা গভীর পানির নিচে অবস্থান করতে পারবে।
এছাড়া এই যুগান্তকারী আধুনিক প্রযুক্তির কারণে শত্রুর রাডার বা সোনার খুব সহজে পানির নিচে এর বাস্তব উপস্থিতি টের পাবে না। ফলে গভীর সমুদ্রে অত্যন্ত গোপনে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এই শক্তিশালী সাবমেরিনটি নৌবাহিনীকে বাড়তি কৌশলগত সুবিধা প্রদান করবে।
সর্বোপরি, এই ধরনের অত্যাধুনিক একটি সাবমেরিনের সফল সংযোজন পাকিস্তান নৌবাহিনীর সামগ্রিক আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। সমুদ্র সীমায় নিজেদের শক্তিমত্তা ও সামরিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি পাকিস্তানের একটি অন্যতম বড় সামরিক পদক্ষেপ।


