অন্বেষণ ডেস্ক : বান্দরবানের আলীকদমে হামের উপসর্গ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। উপজেলা প্রশাসন পুরোদমে টিকা কার্যক্রম চলমান থাকার দাবি করলেও রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আজ শনিবার সারা দিনে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন করে আরও ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। মূলত টিকাদান কর্মসূচির পরও নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে কিছুটা উদ্বেগ ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ অনেক বেশি। আজ সারা দিনে ৪৩ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও মোট ৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। উল্লেখ্য যে, এই ৮৫ জনের মধ্যে শুধুমাত্র হামের উপসর্গ নিয়েই ভর্তি রয়েছেন ৭৩ জন।
এর আগে গত মঙ্গলবার বান্দরবানের সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরী একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টিকা কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জেলার সাতটি উপজেলায় ৯৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে।
তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আলীকদম উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম হিসেবে পরিচিত কুরুকপাতা ইউনিয়নে বর্তমানে হামের উপসর্গের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। যোগাযোগবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ম্রো পাড়াগুলোতে মূল সড়ক থেকে হেঁটে পৌঁছাতে তিন থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
ফলে সেখানে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই দুর্গম এলাকায় এপ্রিলের শুরু থেকেই প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে। গত ১১ এপ্রিল রিংলতপাড়ায় দুই নবজাতকের করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা হামের কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।
আজ বিকেল পাঁচটায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালটিতে মোট ২২০ জন রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আজ ৪৩ জনসহ সর্বমোট ১৪৭ জন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আশার কথা হলো, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
আলীকদম উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ জানান, কুরুকপাতা ইউনিয়নে শিশুদের টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৩৮ জন। সেখানে মোট ৮৪৩ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতির কারণে ১৫ বছরের কম বয়সী আরও ৬২১ জনকেও টিকা দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা দেওয়ার পরও কেন আলীকদমে হামের উপসর্গ কোনোভাবেই কমছে না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের সাবেক পরিচালক ও প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অংসুইপ্রু মারমা গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন।
তিনি জানান, পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় টিকা কর্মসূচির শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। এবারেও খাতায়-কলমে শতভাগ অর্জন দেখানো হলেও প্রকৃত অবস্থা হয়তো ভিন্ন। আর এই কারণেই দুর্গম কুরুকপাতায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।


