হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক কিডনি বিক্রি চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা (সিটি-এসবি)। আটক ব্যক্তির নাম জুনায়েদ হোসেন খান লিংকন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় সিটি-এসবির সদস্যরা তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, সিটি-এসবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানগামী এক যাত্রীকে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়। ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভিকটিমের সঙ্গে জুনায়েদের পরিচয় হয়। এরপর মেসেঞ্জারে যোগাযোগের একপর্যায়ে জুনায়েদ ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি কিডনি বিক্রির প্রস্তাব দেন। টাকার লোভ দেখিয়ে তিনি ভিকটিমকে রাজি করান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে জুনায়েদ ভিকটিমকে ঢাকায় এনে পাকিস্তানের ভিসা করিয়ে দেন এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে পাঠান। এ সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিটি-এসবি বিষয়টি জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে জুনায়েদকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ভিকটিম ও অভিযুক্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগের সত্যতা পায় বলে জানা গেছে। পরে তাদের বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জুনায়েদ আন্তর্জাতিক কিডনি বিক্রি চক্রের সদস্য। এই চক্র বাংলাদেশ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে কিডনি বিক্রি করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন বলেন, ইমিগ্রেশন পুলিশ আসামিকে থানায় নিয়ে এসেছে। হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।


