বগুড়ার শেরপুরে মানবতার সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘দৌড় পরিবার’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। ২০০৬ সালে এসএসসি ২০০২ ব্যাচের একদল শিক্ষার্থীর হাত ধরে শুরু হওয়া এই সংগঠনটি দীর্ঘ দুই দশকে তিন শতাধিক সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বন্ধুত্বের বন্ধনকে মানবিকতায় রূপ দিয়ে সংগঠনটি এখন স্থানীয় পর্যায়ে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সংগঠনটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দৌড় পরিবার কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, বরং মানুষকে স্বাবলম্বী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি খামারকান্দি ইউনিয়নের খলিলুর রহমান এবং পৌর শহরের জাহিনুর ইসলামকে জীবিকা নির্বাহের জন্য অটোরিকশা প্রদান করেছে তারা। এছাড়া কুসুম্বী ইউনিয়নের কেল্লাপোষী গ্রামের একটি মাদ্রাসায় সাব-মারসিবল পাম্পসহ অজুখানা নির্মাণ, বাগড়া কলোনী গ্রামের দরিদ্র ইংরাজ আলীকে টিউবওয়েল ও টয়লেট স্থাপন এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আলমগীরকে একটি মুদির দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করা হয়েছে।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত খলিলুর রহমান বলেন, “দৌড় পরিবারের দেওয়া অটোরিকশাটি আমার পরিবারে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগিয়েছে।” অন্যদিকে ইংরাজ আলী জানান, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার ফলে তাদের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দূর হয়েছে।
সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পঙ্গুদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, দুই ঈদে খাদ্যসামগ্রী প্রদান, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় তারা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করে থাকে।
সংগঠনটির লক্ষ্য সম্পর্কে সদস্য ডা. ইকবাল হোসাইন ছনি, রেজওয়ানুল আলম রাজন, খোরশেদ আলম লিখন ও সৌরভ হাসান মাসুম বলেন, “আমরা চাই সমাজের অবহেলিত মানুষগুলো নিজেদের পায়ে দাঁড়াক। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন সমন্বয় আধুনিক সমাজ গঠনে সহায়ক। দৌড় পরিবারের এই ২০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলা অন্যান্যদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


