বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল (পেট্রোল/অকটেন) সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জ্বালানি না পেয়ে মাঠ পর্যায়ের উন্নয়ন ও তদারকি কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যা অব্যাহত থাকলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে তারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো জ্বালানি মিলছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মেকানিক হেদায়েতুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়নে টিউবওয়েল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ পরিদর্শনে যেতে হয়, কিন্তু তেলের অভাবে এই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রিপা পারভিনও তেলের অভাবে প্রত্যন্ত গ্রামে যেতে সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।
এলজিইডি’র উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসাবুদ্দৌলা বিপ্লব বলেন, “সীমাবাড়ি, ভবানীপুর ও বিশালপুর ইউনিয়নে চলমান প্রকল্পের কাজ তদারকি করতে প্রতিদিন যেতে হয়। তেল না পাওয়ায় এখন নিজস্ব বেতন থেকে সিএনজি ভাড়া করে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা পরিবারের খরচে প্রভাব ফেলছে।” অপর উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক জানান, ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না মেলায় কাজের গতি কমে গেছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিযায় কাযমীর রহমান জানান, গবাদিপশুর চিকিৎসায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীরা তেলের অভাবে খামারিদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তাদের অটোরিকশা বা সিএনজি ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে খরচ বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার জানান, কৃষকদের সমস্যা সমাধানে গ্রামে গ্রামে যাওয়ার একমাত্র বাহন মোটরসাইকেল। জ্বালানি সংকটে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল মজিদ বলেন, “পকেট থেকে সিএনজি ভাড়া দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সরকারি দপ্তরের কাজের গতি ঠিক রাখতে জ্বালানির বিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন।”
মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি সম্পর্কে খামারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান বলেন, “২০ দিন আগেও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের এলাকায় নিয়মিত দেখা যেত, কিন্তু এখন তাদের তেমন একটা দেখা যায় না।”


