বগুড়ার শেরপুরে গ্রামীণ সড়কে গাড়ি ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য মতে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শেরপুর থেকে ছিনতাই হওয়া চারটি ইজিবাইক গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গতকাল শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাত থেকে আজ রোববার (১০ মে) বেলা ১১ টা পর্যন্ত এই অভিযান চালায়।
থানা পুলিশের এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে আজ রোববার বিকাল ৪ টায় শেরপুর থানা চত্বরে এক প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়ার কারাগারে পাঠানো হয়।
যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন, বগুড়ার কাহালু উপজেলার করমজা গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ আংগুরী বেগম (৪৮)। একই উপজেলার গোকর্ণ গ্রামের লিটন প্রাং ওরফে বাটু (৪২), তাঁর স্ত্রী মোছাঃ সালেহা বিবি (৩৯) ও বগুড়ার সদর থানার চান্দাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওরফে সোহাগ শেখকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের তথ্যমতে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শেরপুর উপজেলা থেকে চারটি ছিনতাই করা ইজিবাইক গাড়ি উদ্ধার করা হয়। গাড়িগুলো এখন শেরপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, গ্রেপ্তারের পর ওই দুইনারীসহ অপর দুইজন স্বীকার করেছে, ইজিবাইক গাড়ি চালক তাদেরকে (ছিনতাইকারী) সন্দেহ করতে না পারে এইজন্য এই ছিনতাইকারী চক্র ওই দুইনারীকে ব্যবহার করেছিল। বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছে এই পরিচয় দিয়ে নারীদের নিয়ে ছিনতাইকারীরা ইজিবাইক গাড়ি ভাড়া করত। যাওয়ার পথে নির্জনস্থানে ইজিবাইক গাড়ির চালককে মারধর এবং চেতনানাশক প্রয়োগ করে সড়কের পাশে ফিরে রাখতো। পরে এই গাড়িগুলো তারা বিক্রি করে দিত।
তিনি আরও বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ৪ টায় শেরপুরের দড়িমুকুন্দ গ্রামে একটি ধানের চাতালে আত্ম গোপনে থাকা মোছাঃ আংগুরী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্য মতে অপর তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা ছিনতাই হওয়া ওই ৪ টি গাড়ি জব্দ করা হয়।
এ নিয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, জড়িত ওই চারজন সনাক্ত হওয়ার পর তাদের অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।


