শীত মৌসুম শুরু হতেই বগুড়ার শেরপুরে লেপ তোষক কারিগরদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। পৌর এলাকা ও আশপাশের বাজারগুলোতে লেপ তোষক তৈরির দোকানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিক ও কারিগররা।
উপজেলার খামারকান্দি বাজার ও শেরপুর শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, লেপ-তোষক তৈরি ও সেলাইয়ের কাজে দিনভর ব্যস্ত ধনুকারিগর ও শ্রমিকরা। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত পড়তে শুরু করতেই ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী লেপ ও তোষক তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভালো বিক্রি ও মুনাফার আশায় তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তবে এবার তুলার দাম তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে কালার তুলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিশালি তুলা ৪০ টাকা, সিম্পল তুলা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, শিমুল তুলা ৪৫০ টাকা এবং প্রতি কেজিতে সাদা তুলা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তাদের মতে, শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোষকের চাহিদা আরও বাড়ে। শেরপুর উপজেলায় ১০০ থেকে ১৫০টির বেশি লেপ-তোষকের দোকান রয়েছে। মৌসুমে এসব দোকানের প্রায় সবকটিতেই কারিগরদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
শেরপুর বৈকাল বাজার রোডের ‘মা-বাবার দোয়া বেড শিট’-এর মালিক মো. আফজাল হোসেন বলেন, সময়মতো লেপ-তোষক সরবরাহ দিতে তারা এখন বেশ চাপের মধ্যে কাজ করছেন। শীত মৌসুমেই তাদের সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হয়।
সিয়াম বেডিং হাউজের মালিক মো. লোকমান দেওয়ান জানান, কাপড়ের মান অনুযায়ী লেপ-তোষকের দাম নির্ধারণ করা হয়। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তুলা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় লেপ-তোষকের দামও কিছুটা বেশি পড়ছে।
কারিগর নারায়ণ পাল বলেন, শীত আসতে না আসতেই কাজ বেড়ে গেছে। চার থেকে পাঁচ হাত মাপের একটি লেপ তারা এক ঘণ্টার মধ্যেই তৈরি করে দিতে পারেন।
দোকানিরা আরও জানান, মৌসুমের সময় প্রতিটি দোকানে দুই শতাধিক লেপ-তোষক বিক্রি হয়।
এদিকে, উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিস আলেয়া বলেন, শীত শুরু হলেই শহরের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আগে থেকেই কাপড় সরবরাহ করে কাঁথা সেলাইয়ের অর্ডার দেন।


