গুরুদাসপুরে পুলিশের ওপর হামলা, ২৭০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশর মামলা

নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা বাজার এলাকার ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৭০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকাটি প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে গুরুদাসপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক। মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার উপপরিদর্শক মো. রাকিবুল ইসলাম। এর আগে ঘটনার রাতেই আক্রান্ত দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে মারা যায় চন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান ইসলাম (৮) ও বাবুল ইসলামের ছেলে লাম ইসলাম (৮)। তারা দুজনেই চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দুই শিশুর জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। সেখানে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে যান এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব।

পুলিশের দাবি, সুরতহাল শেষে লিখিতভাবে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে উপস্থিত লোকজন পুলিশের ওপর চড়াও হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও তাদের অবরুদ্ধ করে গালিগালাজ করা হয়। পরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে এসআই আবুল বাশার মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তারা একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নিলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুই শিশুর অকালমৃত্যুতে পরিবার ও গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। জানাজার প্রস্তুতির সময় পুলিশ সদস্যরা সুরতহাল প্রতিবেদনের নামে কাফনের কাপড় সরিয়ে মৃতদেহের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন এবং মরদেহ থানায় নিয়ে যেতে চান। এতে উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল হক জানান, জানাজার প্রস্তুতির সময় দুই পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য মরদেহ দুটি থানায় নিতে চান। একপর্যায়ে মৃতদেহের ওপর থেকে কাফনের কাপড় সরিয়ে অনাবৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগে জানাজায় উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হন।
মামলা দায়েরের পর থেকে ওয়াপদা বাজার, শ্যামপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি করায় গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মামলার বাদী এসআই এমদাদুল হক বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের ওপর হামলা স্বাধীন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে চরম হুমকি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম ও গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান নিশ্চিত করেছেন যে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হবে না।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

অতীতের সবকিছু ভুলে বাংলাদেশ–পাকিস্তান এখন ‘ভাই ভাই’: ফজলুর রহমান

দশম বারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন নিতীশ কুমার

