আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ বড় দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। মাত্র একদিনেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। স্বল্প সময়ে এত বড় পতন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরল বলেই মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এর আগের দিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এমনকি তারও আগে বৃহস্পতিবার সকালে দাম বেড়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে।
রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮০ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বল্প সময়ে এমন বড় পতন বিশ্ব স্বর্ণবাজারে অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে সেই উচ্চতা ছোঁয়ার পরই দরপতনের ধারা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বর্ণের দামে দ্রুত উত্থানের ফলে অনেক বিনিয়োগকারী স্বল্প সময়ে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে, ম, এমন ইঙ্গিত বাজারে চাপ তৈরি করছে। এসব কারণ মিলেই স্বর্ণের দামে সাম্প্রতিক বড় সংশোধন দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ববাজারের এই দরপতনের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এরই মধ্যে স্বর্ণের দামে বড় ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক ধাপে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়। এতে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানো হলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়। এই নতুন দাম কার্যকর হয় শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে।
বাজুসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; একই সঙ্গে রুপার ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


