অন্বেষণ ডেস্ক : সাভারের ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ মোট চারজন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ওই ভবনের দোতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে আহতদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
দগ্ধ শিক্ষার্থীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম রনি এবং তার বন্ধু হাসিনুর। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত আব্দুস সোবহান রায় ও রাহাত নামের আরও দুইজন আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত হন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জাকসুর কার্যকরী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি জানান, বাসাটিতে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যেই রনি ও তার সঙ্গী হাসিনুর সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু মীমাংসার বদলে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিরোধের একপর্যায়ে ছোট ভাই রায়হান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আগে থেকেই ঘরের চারপাশে পেট্রোল ছড়িয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তর্ক চলাকালীন তিনি আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই তা গ্যাস সিলিন্ডারে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে থাকা চারজনই আগুনের লেলিহান শিখায় আটকা পড়েন। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রনি ও হাসিনুরকে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
অন্য দুই আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য সাভারের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, শিক্ষার্থী রনির শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে গেছে। বিশেষ করে তার পিঠ, হাত এবং একটি চোখের অবস্থা বেশ গুরুতর।
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক জানান, রনির চিকিৎসা চলছে এবং তার স্বাস্থ্যের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন বিপদে পড়ার খবরে ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া দগ্ধদের খোঁজখবর নিতে সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


