জনপ্রিয় বাংলাদেশী চিত্রনায়িকা আজমেরী হক বাঁধন নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা টানাপোড়েন নিয়ে বরাবরই গণমাধ্যমে অত্যন্ত সোজাসাপ্টা ও অকপট মন্তব্য করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এই তারকা তার প্রেম, ভবিষ্যৎ বিয়ে এবং জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ তারিখে এক বিশেষ প্রতিবেদনে তার এই ব্যক্তিগত ভাবনার কথা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ পায়। বিশেষ ওই অনুষ্ঠানে সঞ্চালক বাঁধনের কাছে জানতে চান যে, তার নতুন করে প্রেম বা বিয়ে নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে কি না। অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এই প্রশ্নের জবাবে আজমেরী হক বাঁধন জানান, গত বছরই তার বিয়ে করার একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও নিজের মনের মতো ও পছন্দসই জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি মনে করেন।

নিজের জীবনের ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনার কথা উল্লেখ করে বাঁধন জানান, গত বছর তিনি বিয়ে করার মতো একজন পাত্রকে খুঁজে পেয়েছিলেন। বিষয়টি বেশ দূর পর্যন্ত এগিয়েছিল এবং পাত্রের মা-ও তাকে পুত্রবধূ হিসেবে অত্যন্ত পছন্দ করেছিলেন। তবে সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি পাওয়ার আগেই সেই পাত্র এক প্রকার সটকে পড়েন। ফলে তাদের বিয়ের পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বিয়ের জন্য উপযুক্ত কোনো পাত্র খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান এই তারকা অভিনেত্রী। তবে প্রেমের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা যে তার জীবনে নতুন করে এসেছিল, তাও তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, বাঁধনের মতে, প্রেম করার জন্য দুই-একজনকে পেলেও বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যোগ্য কাউকেই তিনি তার আশপাশে খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে বিয়ের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
নিজের অতীত জীবনের ভুলভ্রান্তি নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে একটুও দ্বিধা করেননি আজমেরী হক বাঁধন। অতীতে দুইবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টির উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে সঠিক মানুষ নির্বাচন করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিয়ে তো আমি দুইবার করে ফেলেছি। এখন আর নিশ্চয়ই সেই ভুলটা করা যাবে না। ফলে অত্যন্ত বুঝেশুনে তিনি এবার সিদ্ধান্ত নিতে চান। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে বাঁধন তার শৈশবের রঙিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি জানান, ছোটবেলার কোরবানি ঈদ মানেই ছিল পুরো পরিবারের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হওয়া। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নিজেদের আদি গ্রামের বাড়িতে কাটানো সেই উৎসবমুখর সময়গুলোর কথা মনে করে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সেই স্মৃতিগুলো তার হৃদয়ে আজও অম্লান হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন এই গুণী অভিনেত্রী।


