ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পাঁচ দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে শোক জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
এদিন বিকেলে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হয় বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান জয়শঙ্কর। তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয় তিনি প্রকাশ করেননি।
একই দিনে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস, নয়াদিল্লি-এ যান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। সেখানে ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খামেনির মৃত্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেন তিনি। দূতাবাসে রাখা শোকপত্রেও স্বাক্ষর করেন মিশ্রি।
তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানায়নি ভারত সরকার। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছিলেন। তার ওই সফরের পরপরই ইরানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ কারণে ভারতের অবস্থান নিয়ে দেশটির বিরোধী মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে দাফন করা হবে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা ৮৬ বছর বয়সী এই নেতাকে শহরের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানেই তার পিতার কবর রয়েছে।
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এই স্থানটি শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং শিয়া মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোর একটি। জন্মভূমিতেই তাকে সমাহিত করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


