অন্বেষণ ডেস্ক : শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী রুবেল আহমেদকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি একই আদালত রুবেলের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ড শেষে বুধবার তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে আবারও হেফাজতে নেওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করে পুলিশ।
মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি বুধবার মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় সিআইডি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
উল্লেখযোগ্য যে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন নিহত ওসমান হাদি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনী আমেজের মধ্যেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার পর মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। বিদেশে মারা যাওয়ার ফলে আইনি প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
এ মামলায় গত ৬ জানুয়ারি মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে ২০ জানুয়ারি মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের এই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দাখিল করেন। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।


