চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের মোবারকপুর ইউনিয়নে বিএনপি থেকে ২২ জন নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ইউনিয়নের টিকরী বাজারে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনি পথসভায় তারা দলটিতে যোগ দেন।
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. কেরামত আলী। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নবাগত নেতা-কর্মীদের ফুলের মালা পরিয়ে দলে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ড. কেরামত আলী বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করে আসছে। জামায়াতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন থাকতে হবে, যাতে কেউ অর্থ বা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে জামায়াতে ইসলামীর পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
যোগদানকারী নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সহবুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল, যারা সুষ্ঠু ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম। তিনি উপস্থিত ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে এবং কোনো ধরনের অর্থ বা প্রলোভনের প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মোবারকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন তারা হলেন,১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সাত্তার, জীবন চৌধুরী ও আব্দুর রাজ্জাক; ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. এলিম, আব্দুল মালেক, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. আব্দুল খালেক ও মো. হাবিবুর রহমান; ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইয়াসিন আলী, সদরুল ইসলাম ও শামসুল হক; ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সহবুল ইসলাম ও আব্দুল হাকিম; ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন মাহিদুর রহমান ও হারুন অর রশিদ; ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাইসেন আলী, মনিরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ ও দেলোয়ার; এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামান আলী, মনিরুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম।
স্থানীয় জামায়াত নেতারা জানান, যোগদানকারীরা সবাই ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মী ছিলেন। তাদের যোগদানে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।


