অন্বেষণ ডেস্ক : বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কর্তৃক তলব করার পর সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব ও তাঁর পরিবারের আর্থিক তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রকাশিত তথ্যমতে, তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের মোট নয়টি ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকা জমা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের গুঞ্জন ওঠার পর থেকেই একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি জানান, স্বচ্ছতার খাতিরেই তিনি নিজ উদ্যোগে বিএফআইইউর তদন্তের আগেই সব তথ্য জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তাঁর নিজের নামে দুটি এবং পরিবারের সদস্যদের নামে আরও সাতটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে।
সাবেক এই উপদেষ্টার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা গচ্ছিত আছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন খোলা স্যালারি অ্যাকাউন্টে ১৬ মাসে বেতন ও বিদেশ সফরের বিল বাবদ জমা হয়েছিল মোট ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
বেতন ও ভাতার সেই হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে সেই হিসাবে বড় কোনো অংক জমা নেই। অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদের বাবার নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব থাকলেও সেখানে বড় কোনো সঞ্চয় নেই বলে তিনি দাবি করেছেন। বাবার হিসাবগুলোতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা থাকলেও ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন চলমান রয়েছে।
বাবার ঋণের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতি মাসে বেতন থেকে ঋণের কিস্তি কেটে নেওয়া হয় এবং এখনো ৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বেশি ঋণ পরিশোধ করা বাকি। এই ঋণ বাদ দিলে তাঁর বাবা প্রকৃতপক্ষে এখনো দেনার দায়ে জর্জরিত। এছাড়া মায়ের ব্যাংক হিসাবে ২১ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর হিসাবে মাত্র ৬১৩ টাকা থাকার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
বিএফআইইউর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ৫৬ জনের হিসাব তলব করা হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধু তাঁর বিষয়টিই গণমাধ্যমের একটি নির্দিষ্ট গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, কোনো ধরনের অনুসন্ধান ছাড়াই কেবল চরিত্র হননের হীন উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, অতীতে গণমাধ্যম ও সংস্থাকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও এতিমের টাকা আত্মসাতের মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেই মিথ্যা ন্যারেটিভ দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। জনগণ সত্যটা জানে এবং তাঁর ক্ষেত্রেও অপপ্রচার সফল হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


