অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার পর দেশ ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে এমন দাবি করেছেন আইন, ক্রীড়া ও প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এই সরকারের সময় বাংলাদেশ এখন স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের সাফল্য নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে, তবে একটি বিষয় উপেক্ষা করা যায় না। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের যে আগ্রাসী ভূমিকা ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে স্বাধীনভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এটিকে কি সরকারের কোনো অর্জন হিসেবে দেখা যাবে না?
সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, জনভোগান্তি কমাতে এ পর্যন্ত প্রায় বিশ হাজার হয়রানিমূলক মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আইন, বিচার ও শাসনব্যবস্থায় কার্যকর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই উপদেষ্টা। গেল ১৬ মাসে দেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার তিনি নিজেই হয়েছেন দাবি করে বলেন, তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কখনো তাঁকে পাকিস্তানের দালাল, আবার কখনো ভারতের দালাল বলা হয়েছে। এমনকি তাঁর আমেরিকায় বাড়ি ও পরিবার থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে কাউকে সক্ষম হতে দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামিন ইস্যুতে আইন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাইয়ের পর যাঁরা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের জামিনের প্রায় ৯০ শতাংশই হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি কোথাও অন্যায়ভাবে জামিন হয়ে থাকে, তার দায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের। তিনি আরও বলেন, অনেক বিচারকই ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের, আইন মন্ত্রণালয়ের নয়।
আইন মন্ত্রণালয়কে কেন দোষারোপ করা হয়, এ বিষয়ে দুটি কারণ তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তাঁর মতে, একদিকে ভিউ ব্যবসা, অন্যদিকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা। তাঁকে দুর্বল করতে পারলে বিশেষ রাজনৈতিক দলের পথ সহজ হবে, এমন ধারণাও প্রকাশ করেন তিনি।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, একাধিক উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগের কথা ভেবেছেন। তবে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান স্পষ্ট—এটি একটি টিম। একজন সরে গেলে অন্যদের মনোবল ভেঙে পড়বে এবং কাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। সে কারণেই সব বাধা ও হুমকির মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেষে তিনি বলেন, সময় এলে সব প্রশ্নের জবাব তিনি দেবেন এবং দেশেই থেকে দেবেন। নিজের সততা ও আত্মবিশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আরও ভালো জায়গায় নেওয়া সম্ভব হবে।


