অন্বেষণ ডেস্ক : দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পৈতৃক জেলা বগুড়ায় ফিরছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সড়কপথে রাজশাহী ও নওগাঁয় দলীয় কর্মসূচি শেষ করে তিনি বগুড়ায় পৌঁছাবেন। সন্ধ্যায় শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় এটিই তার প্রথম সফর, যা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে সর্বশেষ তিনি বগুড়া সফর করেছিলেন। লন্ডনে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর গত ১১ জানুয়ারি তার বগুড়ায় আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে সেই সফর বাতিল করা হয়। তবে এবার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তিনি নিজ জেলায় ফিরছেন, যা দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার তিনি সান্তাহার, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু হয়ে বগুড়া শহরে প্রবেশ করবেন। যাত্রাপথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যেমন চারমাথা, তিনমাথা রেলগেট ও সাতমাথায় তাকে স্বাগত জানানোর ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জনসভার জন্য শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ চূড়ান্ত করা হলেও স্থান সংকুলান নিয়ে শেষ মুহূর্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। মাঠের ধারণক্ষমতা প্রায় এক লাখ হলেও লোকসমাগম এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা সেলের আপত্তির মুখে আয়োজকরা বিকল্প স্থানের খোঁজ করছেন। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা শহরের বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শন করেছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম জানিয়েছেন, শহরের বাইরের মাঠগুলোতে বর্তমানে কৃষকের ফসল থাকায় বিকল্প স্থান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় মূল জনসভা আলতাফুন্নেছা মাঠে রেখে বড় পর্দার মাধ্যমে অন্যত্র সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
শুক্রবার তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রচারণায় অংশ নেবেন। এদিন তিনি বায়তুর রহমান জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করবেন। এরপর মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে অবস্থিত পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করবেন। পথে গাবতলী ও শাজাহানপুরে পথসভায় বক্তব্য রাখার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তারেক রহমানের রাত্রিযাপনের জন্য শহরের চার তারকা হোটেল ‘নাজ গার্ডেন’ নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে। হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। তার জন্য বিশেষ প্রেসিডেন্সি সুইট এবং সফরসঙ্গীদের জন্য শতাধিক কক্ষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হোটেল মালিক মোহাম্মদ শোকরানা জানান, দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমানের আতিথেয়তা করার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত।
উল্লেখযোগ্য যে, তারেক রহমান এবার বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে এই আসনটি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পিতার স্মৃতিবিজড়িত ও দলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে তাই বাড়তি আবেগ ও রাজনৈতিক গুরুত্ব কাজ করছে।


