একাত্তরে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ২০২৪ সালে আবার রক্ষা করা হয়েছে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল ১৯৭১ সালে, আর চব্বিশে সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আবারও সংগ্রাম হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ গঠন করা হবে। ওই বিভাগের দায়িত্ব হবে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণ, সুযোগ-সুবিধা এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলো দেখভাল করা।
সভায় তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। সেই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের শহীদ ও আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে যারা পেছনে রয়ে গেছেন—পরিবারের সদস্যরা—তাদের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া জরুরি। সেই দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আওতায় নতুন বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘তারাও মুক্তিযোদ্ধা। আপনারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই গণ্য।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আর ২০২৪ সালে যারা রাজপথে দাঁড়িয়ে লড়েছেন, তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ করেছেন। এই দুই সংগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মধ্য দিয়েই যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও সভায় অংশ নেন।


