অন্বেষণ

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ বাংলা সংবাদ

Sponsored Link

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের চিহ্নিতকরণ, পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হচ্ছে আটককেন্দ্র

অন্বেষণ ডেস্ক
অন্বেষণ ডেস্ক
|
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
|
পড়ার সময়: মিনিট
অক্ষরের আকার:

কথিত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গে আটককেন্দ্র বা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নির্মাণের নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গোপন নির্দেশনার ভিত্তিতে গত শনিবার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের অধীনে থাকা বিদেশি চিহ্নিতকরণ শাখা এই বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এর ফলে দেশটিতে বেআইনিভাবে বসবাসকারী এবং মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দীদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত সেখানে রাখা হবে।

Sponsored Link

উল্লেখ্য যে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের মে মাসে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে ফেরত পাঠাতে একটি বিস্তারিত এবং অত্যন্ত গোপনীয় নির্দেশিকা দিয়েছিল। দীর্ঘ আট পৃষ্ঠার সেই নির্দেশিকাতে কীভাবে তাঁদের চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পূর্বতন নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসন নতুন এই সার্কুলার জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের ভূমিকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

Sponsored Link

প্রসঙ্গত, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশিকার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। তবে বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই নির্দেশিকা পাওয়ার পর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি পূর্বেই অভিযোগ তুলেছিলেন।

বর্তমান সরকারি সার্কুলারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আটক বিদেশি নাগরিক ও স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সরকারি জমি চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Sponsored Link

ফলশ্রুতিতে এই সার্কুলারটি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিচালক, সমস্ত পুলিশ কমিশনারেট, এফআরআরও বা বিদেশি নথিভুক্তিকরণ দপ্তর এবং সব জেলার পুলিশ প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিবের স্বাক্ষর করা এই নির্দেশিকাটি ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে এক নতুন প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, জেলাগুলোতে কৃষিপণ্য বিপণনের জন্য যেসব বড় বাজার বা কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোর খালি জমিতেই এই আটককেন্দ্র গড়ে তোলা হতে পারে। আসামের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের বন্দিশিবির তৈরি হতে চলায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা।

Sponsored Link

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মানবাধিকার আইনজীবী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর ফলে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে এবং বিশেষ করে দরিদ্র মানুষেরা চরম সংকটে পড়বেন বলে তিনি মনে করছেন।

Sponsored Link
ট্যাগসমূহ
Sponsored Link

পাঠক মন্তব্য (টি মন্তব্য)

✓ আপনার মন্তব্য অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হবে ও সঞ্চিত থাকবে।

প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন

Sponsored Link