অন্বেষণ

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ বাংলা সংবাদ

Sponsored Link

শেরপুরে মাদ্রাসার দুই শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন, পালালেন ২ শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
|
প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬
|
পড়ার সময়: মিনিট
অক্ষরের আকার:

বগুড়ার শেরপুরে এক শিক্ষকের মুঠোফোন হারিয়ে যাওয়ার জেরে দুই শিশু ছাত্রকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর তোপের মুখে এলাকা থেকে পালিয়েছেন অভিযুক্ত দুই শিক্ষক। গত রবিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসায় এই বর্বর ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্র হলো, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শ্রীঘণ্টা গ্রামের মো. সিফাত (১০) এবং শেরপুরের জামুর উত্তর পাড়া গ্রামের নাঈম হোসেন (১১)। তারা ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিল। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক আতিকুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন।

Sponsored Link

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার শিক্ষক আতিকুল হাসানের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে আতিকুল ও ইসমাইল হোসেন গভীর রাতে ওই দুই ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফোন চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। নির্যাতনে দুই শিশুর কোমর ও শরীরের নিচের অংশে গুরুতর জখম ও কালশিটে দাগ পড়ে যায়।

আহত সিফাতের বড় চাচা আহমেদ আলী জানান, সোমবার দুপুরের দিকে তিনি নির্যাতনের খবর পান। মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন দুই শিশু বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। পরে তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে মোবাইল হারানোর জেরে এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

Sponsored Link

ঘটনার জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সোমবার বিকেলে মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ করেন। তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক গা ঢাকা দেন।

কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, “মাদ্রাসার মতো একটি পবিত্র স্থানে শিশুদের ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

Sponsored Link

শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সংবাদ পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুদের সাথে কথা বলেছি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Sponsored Link
ট্যাগসমূহ
Sponsored Link

পাঠক মন্তব্য (টি মন্তব্য)

✓ আপনার মন্তব্য অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা হবে ও সঞ্চিত থাকবে।

প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন

Sponsored Link