অন্বেষণ ডেস্ক : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাকিব ও মাশরাফির বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত আইনি সমাধান হলে তাদের আবারও জাতীয় ক্রিকেটে ফেরানো সম্ভব হতে পারে। মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় মিরপুরের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সেই সময় থেকেই জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান দেশে ফিরেননি। অন্যদিকে, সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজাকেও দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উভয়ের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা তাদের খেলার মাঠে ফেরার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাবেক ফুটবল অধিনায়ক ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে, তাই সেগুলোর দ্রুত সমাধানের মাধ্যমেই তিনি চান সাকিব ও মাশরাফিরা যেন আবারও বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারেন। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই জায়গাটাকে অত্যন্ত নমনীয় ও সহনশীলভাবে প্রাধান্য দিতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হলে বা মামলার নিষ্পত্তি হলে তাদের ফেরাতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।
উল্লেখ্য যে, সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার বিরুদ্ধে পৃথক হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া সাকিবের বিরুদ্ধে শেয়ার বাজার কারসাজি ও দুর্নীতির অভিযোগেও একাধিক মামলা চলমান। তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তারা যেন বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেশের জন্য তাদের অবদানকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন নতুন প্রতিমন্ত্রী। গত বছরের অক্টোবরে বোর্ড নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবি সভাপতি হন জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। ওই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তুললেও বর্তমানে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বিষয়টি দেখার কথা জানান আমিনুল হক। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত মতামতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য তিনি বোর্ডের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
আইসিসির নিয়ম মেনে বোর্ডের বিষয়ে এগোতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।’ তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ক্রিকেটের কাঠামোগত উন্নয়নে তিনি বিসিবির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবেন।


