অন্বেষণ ডেস্ক : নিরাপত্তাশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেট দল না পাঠালেও, এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে শুটিং দলকে ভারত সফরের অনুমতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরে যাওয়ার জন্য সরকারি আদেশ বা জিও জারি করা হয়েছে। আগামী ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরটি অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রিকেট এবং শুটিংয়ের ভেন্যুর পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুটিং প্রতিযোগিতাটি ইনডোর এবং অত্যন্ত সংরক্ষিত এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সেখানে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই বলেই মনে করছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করে যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দলটিও বেশ ছোট, যেখানে মাত্র একজন খেলোয়াড় ও একজন কোচ রয়েছেন। আয়োজক কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন দেশের অন্যতম সেরা শুটার রবিউল ইসলাম। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি তার মূল ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রবিউলের সঙ্গে কোচ হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন শারমিন আক্তার। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে অংশগ্রহণের পর বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের জন্য এটিই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তাই এই সফরটি খেলোয়াড় এবং ফেডারেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সফরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ দলের দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে শুটার রবিউল ইসলাম কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবেন। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট হওয়ায় বিশেষ পাসপোর্ট সুবিধার আওতায় ভিসা ছাড়াই ভারতে সাত দিন অবস্থান করতে পারবেন। অন্যদিকে, কোচ শারমিন আক্তারকে প্রচলিত নিয়ম মেনে ভারতীয় ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিজস্ব অস্ত্র ও গুলি বহন করতে হয়, যার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, শুটিং দলের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ক্রিকেট দল না পাঠানো হলেও ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শুটিং দলের এই সফরকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


