ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনা অনেক দূর পর্যন্ত মানুষকে টেনে নিয়ে যায়, কিন্তু এবার সেই আবেগ ছাপিয়ে গেল বাস্তবতাকেও। প্রিয় দল ইংল্যান্ডের খেলা মাঠে বসে দেখতে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৬২ বছর বয়সী ব্রিটিশ সুপারফ্যান অ্যান্ডি মিলনে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের প্রতিটি ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখার স্বপ্ন পূরণেই তিনি এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
অ্যান্ডি মিলনে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত এক নাম। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সি পরে হাতে রেপ্লিকা ট্রফি নিয়ে তার উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এরপর থেকে তিনি বিশ্বফুটবলের ‘সুপারফ্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান।
বর্তমানে থাইল্যান্ডে বসবাসরত এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এখন পর্যন্ত পুরুষ ও নারী মিলিয়ে মোট নয়টি বিশ্বকাপ মাঠে বসে উপভোগ করেছেন। এবারও ইংল্যান্ডের সব ম্যাচ—গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত—দেখার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
এই খরচ জোগাতেই ইংল্যান্ডের চেশায়ারের নর্থউইচ এলাকায় থাকা তার দ্বিতীয় বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তুলেছেন অ্যান্ডি। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে থাকা ওই বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘মিরর’-কে তিনি বলেন, “আমি মূলত বিশ্বকাপে যাওয়ার খরচ জোগাতেই বাড়িটি বিক্রি করছি। কাতার বিশ্বকাপ ছিল নিজের জমানো টাকায় নিজেকে দেওয়া একটি উপহার। এখন মনে হয়েছে, জীবনের বড় স্বপ্ন পূরণের জন্য এটিই সঠিক সময়।”
তিনি আরও জানান, খরচ কিছুটা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে মেক্সিকো, ডালাস ও ভ্যাঙ্কুভারে বন্ধুদের বাসায় ‘কাউচ সার্ফিং’-এর মাধ্যমে থাকার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে বসে খেলা দেখেন অ্যান্ডি মিলনে। সেই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তার বিশ্বকাপ ভ্রমণের সংখ্যা ছুঁয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার এক ইতিহাস।
এদিকে বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনাও বাড়ছে। অভিযোগ উঠছে, সাধারণ সমর্থকদের জন্য খেলা দেখা দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ইউরোপভিত্তিক সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, একজন দর্শক যদি গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত আটটি ম্যাচ দেখতে চান, তবে টিকিটের খরচ পড়তে পারে সর্বনিম্ন প্রায় ৫ হাজার ২২৫ পাউন্ড, আর সর্বোচ্চ প্রায় ১২ হাজার ৩৫০ পাউন্ড পর্যন্ত।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই উচ্চমূল্যকে ‘অস্বাভাবিক চাহিদার প্রতিফলন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সমর্থকদের অসন্তোষ কমছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভ্রমণ ও ফ্যান জোন খরচ বৃদ্ধি—যা অনেকের জন্য বিশ্বকাপকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে।


