অন্বেষণ ডেস্ক : সিলেটে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ দুই মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় সিলেট সদর উপজেলার দলইপাড়া এলাকায় এই দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটে, যেখানে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয়।
বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুর আলম গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং আসামি ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় ইতোমধ্যে শাহপরাণ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শাহপরাণ থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দলইপাড়া এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে ২৯৭ পিস ইয়াবাসহ শহিদুল ইসলাম ও জাবেদ আহমদ নামের দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকের পর আসামিরা চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ফলে তাদের সহযোগীরা এবং স্থানীয় কিছু মাদক কারবারি মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা মারমুখী হয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অন্যদিকে, অতর্কিত এই হামলায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া পুলিশের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা অত্যন্ত সুকৌশলে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং হাতকড়া পরিহিত অবস্থাতেই আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য যে, আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পর পরই পুলিশ ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মঞ্জুর আলম জানিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়া আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
তবে এখন পর্যন্ত ছিনতাই হওয়া আসামিদের কিংবা হামলায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিদের ধরতে আশপাশের এলাকাগুলোর সম্ভাব্য সব স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এই ধরনের দুঃসাহসিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সেখানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মাদক কারবারিদের এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। ফলে তাদের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এবং মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। হামলায় জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।


