স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত না করাসহ ৮ দফা দাবিতে নওগাঁর সাপাহারে প্রতীকী ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন নার্স ও মিডওয়াইফরা। দাবি আদায় না হলে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) ও বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রশাসনিক ব্লকের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩৫ জন নার্স ও মিডওয়াইফ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ৪৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসনকে বিলুপ্ত করে অন্য অধিদপ্তরে একীভূত করার যেকোনো প্রস্তাব নার্সিং পেশার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পূর্বঘোষিত আশ্বাস গত ১৪ মাসেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বহাল রাখা এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন, নার্সদের উচ্চতর পদে (৯ম–৪র্থ গ্রেড) সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি এবং সহকারী নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদের স্নাতক সমমান প্রদান, প্রফেশনাল বিসিএস চালু, ঝুঁকিভাতা প্রদান এবং নার্সিং ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিও উঠে আসে সমাবেশে। বক্তারা বেসরকারি খাতে নার্স নিয়োগে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বেতন কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি ভুয়া নার্সদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। রোগী ও চিকিৎসকের অনুপাতে নার্স ও মিডওয়াইফের পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বানও জানান তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স সুপারভাইজার নাছিমা আখতার, নার্সিং ইনচার্জ মেহের বানু, সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা আকতারী, জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শাম্মী আখতার, এসএসএন আরজিনা খাতুন, মিডওয়াইফ কারিমন, রঞ্জিতা মূর্মু প্রমুখ।
প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নার্সিং পেশার প্রতি সহানুভূতিশীল। তার তত্ত্বাবধানে একটি নার্সিং কলেজও পরিচালিত হচ্ছে। তাই তারা আশা করছেন সরকার তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ দ্রুত মেনে নেবে। তবে আগামীকালের (সোমবার) মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে ২ ডিসেম্বর থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে আল্টিমেটাম দেন।


