অন্বেষণ ডেস্ক : ঢাকা-৮ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তোলা হামলার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, জনগণের সহানুভূতি ও সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই বিএনপির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচনী গণসংযোগে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে বিএনপি ও ১১–দলীয় ঐক্য সমর্থিত এনসিপি প্রার্থীর মধ্যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালে, যখন নির্বাচনী এলাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে গণসংযোগে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তাঁকে লক্ষ্য করে একদল লোক ডিম নিক্ষেপ করে। এই হামলার জন্য নাসীরুদ্দীন সরাসরি মির্জা আব্বাসের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেন। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস।
অভিযোগের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ওরা মিথ্যা কথা বলছে। এটি কেবল সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। আমি ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন করছি, আজ পর্যন্ত বিএনপির সমর্থকেরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা করেছে, এমন কোনো রেকর্ড নেই।’

মির্জা আব্বাস পাল্টা অভিযোগ করেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচন ভন্ডুল করার লক্ষ্যে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আমাদের অনেক আকাঙ্ক্ষিত একটি ফসল, যা আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করেছি। সুতরাং নির্বাচন ভন্ডুল করার কোনো কারণ আমাদের নেই।’ তিনি জানান, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিজ কর্মীদের শান্ত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উল্টো নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন সাবেক এই মন্ত্রী। মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচনী এলাকায় এনসিপি নেতার বিশাল আকৃতির রঙিন পোস্টার দেখা যাচ্ছে, যা আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ১৯৭৭ সালে তিনি এই এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার মানুষ তাকে চেনেন এবং তিনি ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। পোস্টার বা ব্যানারে নয়, জনগণের মন জয় করেই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


