অন্বেষণ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে ডাকাত দলের হামলার পর ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান অবস্থায় থাকা ২০ জেলে উদ্ধার হয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযানে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে কুতুবদিয়ার অদূরে গভীর সাগর থেকে তাদের জীবিত উদ্ধার করে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সুরমা’।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষা ও সমুদ্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর জাহাজগুলো নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় ‘বানৌজা সুরমা’ জরুরি টেলিবার্তার মাধ্যমে একটি ফিশিং বোটের বিপদে পড়ার খবর পায়। কুতুবদিয়ার অদূরে সাগরে মাছ ধরার ওই নৌকাটি ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসছিল।
সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নৌবাহিনীর জাহাজটি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এরপর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় ভাসমান নৌকাটি থেকে ২০ জন মাঝিমাল্লাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর দেখা যায়, দীর্ঘ সময় সাগরে অনিশ্চিত অবস্থায় থাকায় জেলেরা বেশ আতঙ্কিত ও ক্লান্ত ছিলেন। নৌসদস্যরা তাদের জাহাজে তুলে নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন।
অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া জেলেরা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তারা জানান, গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে তারা সমুদ্রে যাত্রা করেছিলেন। বেশ কয়েকদিন মাছ ধরার পর গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তারা বিপদে পড়েন।
ভোর ৪টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন দুষ্কৃতকারী অন্য একটি দ্রুতগতির নৌকা নিয়ে তাদের ট্রলারে হামলা চালায়। এসময় ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে জেলেদের জিম্মি করে ফেলে এবং ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।
দুষ্কৃতকারীরা জেলেদের ট্রলারে থাকা সব মাছ, চারটি ড্রাম ভর্তি ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডার লুট করে নেয়। এমনকি জেলেদের ব্যক্তিগত মালামালও কেড়ে নেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তারা নৌকার ইঞ্জিন বিকল করে দেয়।
ফলে জেলেরা সাগরের মাঝখানে অসহায় হয়ে পড়েন। নৌবাহিনীর এই মানবিক ও যথাসময়ে পরিচালিত অভিযানের কারণে জানমালের বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে জেলেরা সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।


