রমজানের প্রথম শুক্রবারে সাপ্তাহিক ছুটি ও ইফতারের বাড়তি চাহিদাকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে মাছ–মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে সোনালি মুরগি, গরুর মাংস এবং মাঝারি মানের কয়েক ধরনের মাছের কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। এতে রোজার শুরুতেই হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও খুচরা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতা–ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে আজ সোনালি মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এ মুরগির দাম ছিল ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি এখন ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ১৮০ টাকার আশপাশে ছিল। লাল লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি কেজিতে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংসের বাজারেও বেড়েছে দাম। রোজার আগে যেখানে গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা উঠেছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। তবে খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই; প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, রোজায় ইফতার ও পারিবারিক আয়োজনে মুরগি ও মাংসের চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে।
মাছের বাজারেও চড়া দামই চোখে পড়ছে। মাঝারি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, ভালো মানের দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি।
রমজানের দ্বিতীয় দিনে কিছু সবজির দামে স্বস্তি মিললেও ইফতারের সঙ্গে বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। কুমড়া কেজিতে ১৬ থেকে ২০ টাকা, মুলা ১২ থেকে ২০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন ও শশার দাম কেজিতে ৭০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে; কেজিতে ১০ টাকা কমে এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রামপুরা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাসেল বলেন, ‘রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরেক ধাপ ওপরে উঠেছে। গত সপ্তাহে যে রুই ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটার দাম ৪০০ টাকার ওপরে। সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
বনশ্রীর গৃহিণী রহিমা বলেন, ‘রোজায় মুরগির মাংস একটু বেশি লাগে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি দাম বেড়েছে। আয় তো বাড়ছে না, অথচ খরচ প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।’
তবে ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের সমান। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় আপাতত ডিমের দামে চাপ পড়েনি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজার শুরুতেই চাহিদা বাড়ায় মাছ–মাংসের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পুরো মাসজুড়ে এই ধারা থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ক্রেতারা। তাদের আশঙ্কা, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।


