রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সাপ্তাহিক ছুটির সকালে বাজারে গিয়ে যেন নতুন করে ধাক্কা খাচ্ছেন ক্রেতারা। সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, সবখানেই বাড়তি দাম।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দামে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে। প্রায় কোনো সবজিই ৬০ টাকার নিচে নেই। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। টমেটো ৬০, করলা ৬০-৬৫, পটল ৬০, ঢেঁড়স ৬০, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৭০ টাকা। শসা ১০০ থেকে ১১০, বরবটি ৮০, কাঁকরোল ১২০ এবং বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মাংস ও মুরগির বাজারেও বাড়তি দাম লক্ষ্য করা গেছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে বেশিরভাগ দোকানে ৮০০ টাকার নিচে মিলছে না। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খিলক্ষেত বাজারে মাংস কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় গরুর দাম নিয়েও আগাম হিসাব কষছেন বিক্রেতারা।
মুরগির দাম নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন আরেক ক্রেতা। তার ভাষায়, কয়েক দিন আগেও যে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকায় পাওয়া গেছে, সেটিই এখন ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেড়েছে। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। তেলাপিয়া ২৩০, পাবদা ৩৮০, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০, কাতল ৪০০ টাকা। টেংরা ৮৫০ এবং গলদা চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্ধ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণ খরচও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।


