অন্বেষণ ডেস্ক : সংবিধান থেকে ৭ মার্চের ভাষণ খুব শিগগিরই বাদ দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, একটি রাষ্ট্রের সংবিধান কখনো নতুন করে সংস্কার হয় না, বরং এটি বিভিন্ন সময়ে রহিত, স্থগিত কিংবা সংশোধন করা হয়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এই আইনি এবং ঐতিহাসিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এবং এর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন তফসিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই পঞ্চদশ সংশোধনীকে সরাসরি ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সংবিধানে সম্পূর্ণ ভুল ইতিহাস এবং তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা অত্যন্ত সুকৌশলে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা হাইকোর্ট এই বিতর্কিত সংশোধনীর বেশ কিছু অংশকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, সংশোধনীর যে বাকি অংশগুলো রয়েছে, তা বর্তমান সার্বভৌম সংসদই আলোচনা সাপেক্ষে বাতিল বা সংশোধন করবে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষ করে সংবিধানের ৫, ৬ এবং ৭ নম্বর তফসিল নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই নির্দিষ্ট তফসিলগুলোতে যে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, তা বস্তুনিষ্ঠ নয়। ফলে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগুলো বিলুপ্ত করা একান্ত প্রয়োজন।
ইতিহাসের পাতা থেকে সঠিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রকৃতপক্ষে ২৬ মার্চ দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রোভিশনাল হেড অব স্টেট হিসেবেও তিনি নিজেকে ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস। আর এই সঠিক ইতিহাসকেই তারা পুনরায় সংবিধানে সসম্মানে ফিরিয়ে আনতে চান। রাষ্ট্রের ক্ষমতার উৎস সম্পর্কেও তিনি সংসদে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার একমাত্র মালিক হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। আর জনগণের সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়ে থাকে এই জাতীয় সংসদের মাধ্যমে। সংসদকে আরও কার্যকর করতে তারা নতুন একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যেই তারা সংসদে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট বা সমর্থন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এই নতুন উচ্চকক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়েছে।
ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি এবং সাংবিধানিক কাঠামোতে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংবিধানে এই রদবদল কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিগত সময়ে সংবিধানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। যার ফলে আইনের শাসন অনেকাংশেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সংবিধানে থাকা সকল অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তাই ৭ মার্চের ভাষণসহ এসব বিতর্কিত বিষয়গুলো সংবিধানের অংশ হিসেবে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।


