পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে তার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন সর্ব মিত্র চাকমা।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার সকালে তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গ্রহণ করা হয়। সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় এই পদত্যাগ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছিল বলেই জাতীয় নির্বাচনে তিনটি আসনেই দলটির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান পাহাড়ি ও বাঙালি, উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই সম্মানিত ব্যক্তি।
তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে অসুস্থতার কথা বলা হলেও বিষয়টিকে তিনি ভিন্নভাবে দেখছেন। তার দাবি, দীপেন দেওয়ান নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রীর পদ ছাড়েননি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের কারণেই মাত্র তিন মাসের মাথায় তার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দ্বন্দ্বের জেরে এ ধরনের ঘটনা বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার বিকেলে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা। শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দীপেন দেওয়ান ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে বিচার বিভাগে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় জুডিসিয়াল সার্ভিসে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৬ সালে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসেন তিন। ওই সময় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি যুগ্ম জেলা জজ পদ ছেড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।


