সিলেটে শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগে লোদন (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিলেট রেল স্টেশন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে গত মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। ১২ বছর বয়সী ওই ভবঘুরে শিশুটিকে প্রথমে মাদক সেবন করানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত লোদন সিলেট রেল স্টেশন এলাকাতেই দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছিল। সে মূলত একজন পেশাদার মাদকসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ঘটনার রাতে সে ওই মেয়েটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, লোদন প্রথমে মেয়েটিকে জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়ে অচেতন করার চেষ্টা করে। এরপর সে রেল স্টেশনের পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে নিয়ে তাকে পাশবিক নির্যাতন চালায়। ফলে ভুক্তভোগী শিশুটি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে চিৎকার শুরু করে।
পরবর্তীতে ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই রেল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। তবে স্থানীয়রা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, ঘটনা জানার পর দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযান থেকে মূল অভিযুক্ত লোদনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী শিশুটি মূলত রেল স্টেশন এলাকার একজন ভবঘুরে বাসিন্দা। অন্যদিকে, এই ঘটনার পেছনে জড়িত লোদনসহ অন্যরা নিয়মিত মাদক সেবন করত।
ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্ধারকৃত শিশুর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রেল পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আমরা একজনকে আটক করেছি। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রেল স্টেশন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করছে।
বর্তমানে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, দোষী ব্যক্তিদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। রেলওয়ে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


