অন্বেষণ ডেস্ক : দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে চলতি সপ্তাহে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ট্রাম্প মোবাইল। বুধবার (২০ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রায় এক বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির পর ৪৯৯ ডলার মূল্যের এই ফোন বাজারে আসছে।
গত বছরের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ফোন আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে জামানত নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এতদিন বিস্তারিত কোনো তথ্য ছিল না।
অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, স্বর্ণখচিত ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নামের ফোনটি ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত। ওয়ালমার্টে ২০০ ডলারে বিক্রি হওয়া চীনে নির্মিত টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি জিএসএম ফোনের সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে, ওয়েবসাইটে ‘শর্তাধীনে’ ফোন ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, যারা ১০০ ডলার জামানত রেখে প্রি-অর্ডার করেছিলেন, তাদের সবাইকেই ফোনটি দেওয়া হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটি মূলত একটি বিশেষ শর্তের আওতায় পাওয়া সুযোগ।
অন্যদিকে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ফেসবুকে একটি ঘোষণার মাধ্যমে ডেলিভারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের একটি পোস্টে বলা হয়, যারা টি১ ফোন প্রি-অর্ডার করেছিলেন, তারা শিগগিরই ইমেইলে আপডেট পাবেন। চলতি সপ্তাহেই ফোনগুলো পাঠানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট ও’ব্রায়েন সিএনএনকে জানান, গুণগত মান ঠিক রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে ডিভাইসটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। চাহিদা অনেক বেশি থাকায় ধাপে ধাপে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ এই বিষয়ে নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। তার মতে, একটি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে সাধারণত ১৮ মাসের মতো সময় লাগে। কারণ সফটওয়্যার চূড়ান্ত করা ও চুক্তির কাজে ব্যাপক সময়ের প্রয়োজন হয়।
তবে এই ফোন ঘিরে বেশ কিছু বিতর্কেরও জন্ম হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় যেসব ফিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, চূড়ান্ত মডেলে তার সবকিছু থাকছে না। বিশেষ করে এতে তুলনামূলকভাবে ছোট স্ক্রিন এবং কম মেমোরি ব্যবহার করা হয়েছে।
শুরুতে এর প্রচারণায় ‘মেইড ইন ইউএসএ’ বলা হলেও দ্রুত এই দাবি থেকে সরে আসে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। পরবর্তীতে জানানো হয়, মার্কিন মূল্যবোধ মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। মূলত মোবাইল ফোন খাতের বিশ্লেষকরা শুরু থেকেই এই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন।
ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএনকে জানান, এ ধরনের দাবিগুলো অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ফোনের ডিজাইন যুক্তরাষ্ট্রে হলেও এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চীন বা ভারতের মতো দেশ থেকে সংগ্রহ করা হতে পারে, যেখানে উৎপাদন খরচ অপেক্ষাকৃত কম।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হওয়ায় নিজের নাম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রির বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এই ফোন বাজারজাতকরণের সঙ্গে ট্রাম্প নিজে নন, বরং তার দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।
এই ফোনের ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম এবং ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্জনকে প্রতীকী রূপ দিতেই মূলত এমন ব্যতিক্রমী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


