সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্সে চলে গেছেন এবং তাকে দেশের ‘রাজনীতির আদুভাই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির আদুভাই ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ফ্রান্সে গিয়েছেন। তবে সেখান থেকে তিনি আর দেশে ফিরে আসবেন কি না, তা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মনে এখন নানা প্রশ্ন ও গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
গোলাম মাওলা রনি আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, ড. ইউনূস যদি আবার দেশে ফিরে আসেন, তবে ধরে নিতে হবে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন। ফলে সাধারণ জনগণের কপালে আরও বড় বড় মার্কিন চুক্তি অপেক্ষা করছে।
ড. ইউনূসের ফ্রান্সে বিশাল ব্যবসা ও বিনিয়োগ রয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য দাবি করেন, তিনি ফ্রান্সের একজন নামকরা ব্যবসায়ী। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ফ্রান্সে তিনি অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন।
উল্লেখ্য, তিনি যখন প্রথমবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছিলেন, মূলত ফ্রান্স থেকেই এসেছিলেন। এমনকি তিনি যখনই কোনো শারীরিক সমস্যায় পড়েন বা তার নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সেটিও তিনি ফ্রান্সে গিয়েই সম্পন্ন করেন।
গোলাম মাওলা রনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছোট দাদার মতো বয়সে রাজনীতিতে এসে তিনি তার দীর্ঘ জীবনের অর্জিত সব সম্মান হারিয়েছেন। এ দেশের মানুষ এখন তাকে আর মোটেও বিশ্বাস করে না।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের একটি বিশাল অংশ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছে এবং আদুভাইকে যথাযথ শিক্ষা দেওয়ার জন্য ফুঁসছে। তবে সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টার ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়ে তিনি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, ড. ইউনূসের সেই কিচেন ক্যাবিনেটে কারা সদস্য ছিলেন এবং সেখানে আসলে কী ধরনের গোপন বৈঠক পরিচালিত হতো, তা জানতে দেশের সচেতন জনগণ এখন ভীষণ আগ্রহী বলে তিনি মনে করেন।
তিনি স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন, এই লোকগুলো আমেরিকার দালাল কিংবা মার্কিন ডিপ স্টেটের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে। তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ কী ছিল এবং তারা এর বিনিময়ে ঠিক কী সুবিধা পেয়েছে, তা এখন জনগণের সামনে স্পষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি।
ফলে, এই স্বার্থান্বেষী মহলটি নিজেদের প্রাপ্তির বিনিময়ে দেশের কতটা গভীর সর্বনাশ করেছে, তা নিয়ে দেশের সচেতন নাগরিকরা এখন নানাভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। খুব শীঘ্রই এই সত্য বেরিয়ে আসবে বলে রনি আশা প্রকাশ করেন।


