কুমিল্লার বুড়িচংয়ে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার ও কোরপাই এলাকায় রবিবার (৩১ মে) ভোর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৭টার দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই ঝটিকা মিছিলটি বের করেন।
পরবর্তীতে তারা মহাসড়কে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে দ্রুত সড়কটি প্রদক্ষিণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, মিছিলটি মহাসড়কের কিছু অংশ প্রদক্ষিণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা হয়। তবে মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে এই ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহেতাসামুল হাসান রুমির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বুড়িচং উপজেলা যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিনের উদ্যোগে এটি সম্পন্ন হয়।
এই মিছিলের সত্যতা নিশ্চিত করে যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার এলাকায় মিছিল করেছেন। ফলে দীর্ঘদিন পর এই এলাকায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা গেল।
অন্যদিকে এই ঝটিকা মিছিলের ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের মুন্সী এই ঘটনাকে ক্ষতিকারক ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অত্যন্ত গোপনে এবং আকস্মিকভাবে এই মিছিলের আয়োজন করেছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনসহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আলোচনা সাপেক্ষে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
তাছাড়া বিএনপি নেতা আবু নাসের মুন্সী স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহাসড়কে মিছিল করার সুযোগ পাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসন কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি, তা তারা জানতে চাইবেন।
তবে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, কোরপাই এলাকায় কিছু লোক একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুরো এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনার পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র: কালের কন্ঠ


