খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা শেখ মহিবুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা শাখার আমির এমরান হোসাইনের স্বাক্ষরিত ২৭ মে তারিখের এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাড়ুলী ইউনিয়নের সদস্য (রুকন) শেখ মহিবুল্লাহ সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আনুগত্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। পাশাপাশি দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার সদস্যপদ (রুকনিয়াত) সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৮ নম্বর রাড়ুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শেখ মহিবুল্লাহ। এ লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচারণাও চালিয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি ওই ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মোমিন সানার নাম ঘোষণা করা হয়।
এরপর দলীয় সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহার পরদিন, ২৯ মে, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করেন শেখ মহিবুল্লাহ। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তিনি সমর্থকদের নিয়ে ওই কর্মসূচি পালন করেন।
বহিষ্কারের বিষয়ে শেখ মহিবুল্লাহ বলেন, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। এ কারণে তিনি গত ১১ মে সংগঠন থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, বহিষ্কারের চিঠি তিনি পেয়েছেন এবং দলীয় অবস্থান যাই হোক না কেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পাইকগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাঈদুর রহমান বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাড়ুলী ইউনিয়নের রুকন পদ থেকে শেখ মহিবুল্লাহকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।


