পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড় ও বজ্রপাতে প্রাণহানির পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়া, দেয়াল ধস এবং যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্নের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩০ মে) বিকেলে কলকাতাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যায়। এতে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সময় কলকাতায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার ছিল। প্রবল বাতাসে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে কলকাতা পৌরসভা, পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মীরা দ্রুত গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেন।
ঝড়ের প্রভাবে শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখার রেল চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন স্থানে গাছ ও ডালপালা বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে যাওয়ায় ওভারহেড লাইনের ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরেও কিছু সময়ের জন্য বিমান ওঠানামা ব্যাহত হয়েছে।
কলকাতায় ঝড়ের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চক্ররেল লাইনের কাছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবক মারা যান। অন্যদিকে, চেতলা এলাকায় একটি দেয়াল ধসে পড়ে রবিন কুমার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চৈতন্য ধীবর (৫৬), শেখ ছোটু (২৫) এবং কৃষক নিমাই চন্দ্র গড়াই (৪৫)। এছাড়া বজ্রপাতে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়ের মধ্যে দুর্ঘটনায় নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী রূপক চইড়া ও অয়ন গোস্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ঝাড়গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মুক্তিপদ পাল (৫৯) নামে এক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে।
এদিকে হুগলি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পর থেকে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
রাজ্যের সচিবালয় নবান্ন থেকে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানান। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে চার লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন।


