বগুড়ার শেরপুরে একটি পোল্ট্রি হ্যাচারিতে দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোররাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাতে শেরপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শেরপুর উপজেলার মান্দাইল গ্রামের মোঃ নূর নবীর ছেলে মোঃ সেলিম (৩২), একই গ্রামের মোঃ দুলালের ছেলে মোঃ হিরন (৩০) এবং জামাইল হাট এলাকার মৃত ইসমাইলের ছেলে মোঃ ওবাইদুল (৩০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের মান্দাইল গ্রামের ‘নারিশ পোল্ট্রি এ্যান্ড হ্যাচারি-১২’ নম্বর প্রজেক্টে গত ২৪ মে সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা প্রবেশ করে। সেখানে সিকিউরিটি সুপারভাইজার সার্জেন্ট (অবঃ সেনা) মোঃ আঃ হালিমের কাছে ঈদ উপলক্ষে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে তারা কোম্পানি ও কর্মীদের বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন গভীর রাতে ওই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে হ্যাচারির উত্তর পাশের কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় তারা কর্তব্যরত নৈশপ্রহরী মোঃ রুবেলকে লক্ষ্য করে খেলনা পটকা ফাটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং ধাওয়া দেয়। পরে দুর্বৃত্তরা জেনারেটর রুমের ভেতরে ঢুকে ব্যাটারি চুরির চেষ্টা চালায়।
একপর্যায়ে সিকিউরিটি সুপারভাইজার ও প্রজেক্টের অন্যান্য কর্মীরা একত্রিত হয়ে বাঁশি বাজিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল, দা ও লাঠি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল ফোন এবং ব্যবহৃত পটকার খোসা ফেলে রেখে যায়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ জানান, “ঘটনার পর ফেলে যাওয়া আলামত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান তিন আসামিকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


