দীর্ঘ এক অধ্যায়ের অবসান। আর্জেন্টিনার গোলবারের নির্ভরতার আরেক নাম সার্জিও রোমেরো সব ধরনের ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক নিজের ক্যারিয়ারের শেষ সিদ্ধান্ত জানান।
জাতীয় দলে এক সময় অবিচ্ছেদ্য নাম হয়ে ওঠা রোমেরো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন রেকর্ড ৯৬টি ম্যাচ। ২০০৯ থেকে ২০১৮—এই প্রায় এক দশক গোলপোস্টের নিচে ছিলেন আস্থার প্রতীক হিসেবে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অবসর নিলেও ফুটবল থেকে দূরে যাচ্ছেন না তিনি। ভবিষ্যতে কোচ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে তার। সাম্প্রতিক সময়ে চোট ও পারফরম্যান্সে ছন্দ হারানোই মূলত তাকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোমেরোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতম অধ্যায়গুলোর একটি ছিল ২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। সেই আসরের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এখনও ভক্তদের স্মৃতিতে অমলিন। এছাড়া ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকাতেও দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। যদিও তিনবারই শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি আর্জেন্টিনার।
ক্লাব ক্যারিয়ারেও ছিল বৈচিত্র্য। আর্জেন্টিনার রেসিং ক্লাব থেকে যাত্রা শুরু করে ইউরোপের এজেড আলকামার ও সাম্পদোরিয়ার হয়ে খেলেছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তিনি মূলত ডেভিড ডি গিয়ার বিকল্প হিসেবে থাকলেও সুযোগ পেলেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ক্লাবটির হয়ে ৬১ ম্যাচে খেলেও ৩৯টিতে গোল না খাওয়ার রেকর্ড তার দক্ষতারই প্রমাণ।
পরবর্তীতে ভ্যালেন্সিয়া ও বোকা জুনিয়র্স–এ খেলার পর সর্বশেষ আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স–এ যোগ দেন তিনি। গত ডিসেম্বর থেকে ক্লাবহীন থাকার পরই অবশেষে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও কম যান না রোমেরো। ২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিক–এ স্বর্ণপদক জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি।
চোট আর সময়, দুটোর সঙ্গেই লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মাথা উঁচু করেই বিদায় নিলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরে নতুন ভূমিকায় কতটা সফল হন তিনি।


