বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার নূরজাহান হোটেল এ এক ওয়েটারকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হোটেলের ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়ে রাজি না হওয়ায় ওই কর্মচারীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মচারী মো. সোহেল রানা (৩৮) বাদী হয়ে সোমবার রাতে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সোহেল রানা নূরজাহান হোটেলে ওয়েটার হিসেবে কর্মরত। ৩০ মার্চ সকালে ডিউটি চলাকালে বিবাদী মো. আব্দুল আলীম (২২) ও মো. জাকারিয়া (১৮) তাকে নির্দেশ দেন যেন হোটেলে আগত ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রকৃত বিলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। সোহেল রানা এতে অসম্মতি জানালে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হোটেলের ভেতরেই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন অভিযুক্তরা। তিনি প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে আব্দুল আলীম ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাশ কাউন্টার থেকে উঠে এসে সোহেল রানার ডান চোখের নিচে সজোরে ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
এরপর অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে জখম সৃষ্টি করে। তার চিৎকারে সহকর্মীরা সোহেল রানাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে মারধরের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন হোটেল মালিক মো. কালাম শেখ। তিনি জানান, “আমরা মাইক দিয়ে নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের বিলের ব্যাপারে সচেতন করি। তবে সোহেল রানা একটি টেবিলে চার প্লেট মাংস সরবরাহ করে তিন প্লেটের বিল ধরেন এবং গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে বকশিশ নেন। এই অনিয়ম হাতে-নাতে ধরা পড়লে একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”
এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


