অন্বেষণ ডেস্ক : দীর্ঘ ১৭ বছরের উন্নয়ন বঞ্চনা থেকে বেরিয়ে এসে লক্ষ্মীপুরে অর্থনৈতিক জোন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
এই সভায় এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সাংগঠনিক নানা বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যানি চৌধুরী জানান, বিগত সরকারগুলোর আমলে এই অঞ্চলটি নানাভাবে উপেক্ষিত ছিল। ফলে রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়।
মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের বঞ্চনার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “রাস্তা-ঘাট, জলাবদ্ধতা, স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ উন্নয়নের দিক থেকে আমরা অনেক বঞ্চিত হয়েছি গত ১৭ বছর। এখান থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে।”
এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ ও বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলাকে নতুনভাবে গঠন করার বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই নতুন উপজেলা গঠনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটাতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এই প্রবীণ রাজনীতিক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা ১৭ বছর বঞ্চনার শিকার হয়েছি। আমরা যেন আর অবহেলিত না থাকি, উপেক্ষিত না হই।”
উল্লেখ্য যে, লক্ষ্মীপুর জেলা মূলত মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি সম্ভাবনাময় জনপদ। এখানকার অর্থনীতি প্রধানত কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হলেও শিল্পায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধিত হয়নি। তাই পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির এই অর্থনৈতিক জোন গঠনের প্রতিশ্রুতিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।
নদীভাঙন রোধ ও জলাবদ্ধতা দূর করতে পারলে এখানে শিল্পের প্রসার ঘটানো অনেক বেশি সহজ হবে। এই লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এরই মধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। একটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে লক্ষ্মীপুরের শিক্ষার্থীদের আর উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য জেলায় পাড়ি জমাতে হবে না।
একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় আরও অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা মন্ত্রীর উন্নয়নমূলক ঘোষণাকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার ইতিহাস মুছে ফেলে লক্ষ্মীপুর খুব দ্রুতই একটি আধুনিক ও উন্নত জেলায় রূপান্তরিত হবে।


