ফেনীতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার জন্য পেট্রোল পাম্পগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। রেজিস্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ এবং চালকের হালনাগাদ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে কোনো যানবাহনে তেল না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরযান সড়ক, মহাসড়ক বা জনসমাগমস্থলে চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ধারা ৪(১) ও ১৬(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ। এছাড়া ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ছাড়া কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস দিয়ে কোনো যানবাহন পরিচালনা করা যাবে না।
এ পরিস্থিতিতে আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলার সব পেট্রোল পাম্প, প্যাকড পয়েন্ট ও এজেন্সিকে কাগজপত্রবিহীন যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে একই দিন দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি প্রস্তাব উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে— হেলমেট ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়া, রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা, মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কার্ড সিস্টেম চালু, অবৈধভাবে বাইরে তেল বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজন হলে পাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা।
সভায় জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ডিপো থেকে পাম্প মালিকরা চাহিদার তুলনায় কম তেল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হচ্ছে। একই মোটরসাইকেল একাধিক পাম্প থেকে বারবার তেল নেওয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। তেলের সংকট কমাতে আইন অনুযায়ী এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


