ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্ট শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ইয়াছিন আরাফাত (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি পেশায় একজন মাদ্রাসাশিক্ষক।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ইয়াছিন আরাফাত ময়মনসিংহের ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার বাসিন্দা। তিনি গাজী মিয়ার ছেলে এবং তার মায়ের নাম সফুরা খাতুন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি প্রায় ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার সময় ফ্যাক্টরির ফটকে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করা, মারধর করে ফটকের সামনে হত্যা করা এবং পরে দড়ি দিয়ে মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাত অন্যতম।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৯ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ১৮ জন আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মহাসড়কের পাশে তার মরদেহ বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পরদিন ১৯ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই অপু দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডে লাইন সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


