বগুড়ার শেরপুরে এক ছাত্রীর গোপনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পর্নোগ্রাফি আইনে দুই কিশোর-কিশোরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পৃথক অভিযানে নবম শ্রেণির এক ছাত্র (১৬) ও অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. আল আমিন জানান, শহরের একটি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৫) শুক্রবার রাতে থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে শহরের মহিপুর বাজার এলাকা থেকে এক কিশোর এবং উত্তরসাহা পাড়া মহল্লা থেকে এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ ডিসেম্বর প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ওই কিশোর ভুক্তভোগী কিশোরীকে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে তার অজান্তেই অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভিডিওটি অন্যদের কাছে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও ব্যবহার করে ভুক্তভোগী কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে টাকা না পাওয়ায় গত ২৭ মার্চ ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী কিশোরীর সামাজিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদাহানি ঘটে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলার সব আসামিই শেরপুর পৌর শহরের বাসিন্দা। এজাহারভুক্ত অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতরা কিছু তথ্য স্বীকার করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


