যুবসমাজকে বেকার ভাতার ওপর নির্ভরশীল না করে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তরুণ-তরুণীদের অপমানজনক কোনো ভাতা নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। প্রত্যেক তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীর হাতকে আমরা দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। কাজের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কেউ কেউ হাতে কার্ড নিয়ে বের হয়েছেন—ফ্যামিলি কার্ড, ফারমার্স কার্ড। সরলমনা কৃষকদের এসব কার্ড দেখিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। অথচ যাদের শাসনামলে কৃষকরা ন্যায্য দামে সার চেয়েছিল, তারা সার পায়নি—পেয়েছিল গুলি।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ কাউকে অচেনা নয়। এই পোড়খাওয়া মানুষকে বোকা ভাবার সুযোগ নেই। তারা যথেষ্ট সচেতন এবং সবকিছু বোঝে।
দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে গিয়ে রাজকীয় জীবনযাপন করছে, তাদের ঘুম হারাম করে দেওয়া হবে। শুধু সম্পদ নয়, এসব টাকা পাচারকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তার দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।
রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে কেউ কেউ ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখে অনেকেই এখন ‘হ্যাঁ’ বলতে শুরু করেছেন। জনগণের চাপ অত্যন্ত শক্তিশালী—এটা সাগরের ঢেউকেও থামিয়ে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান ইমরুলের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম, নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলন, আসাদুজ্জামান সোহেল এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সার। এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসন ও নেত্রকোনা জেলার প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন।


