অন্বেষণ ডেস্ক : রাজনীতির অঙ্গন স্বচ্ছ হলে পুরো সমাজ স্বচ্ছ হয়ে যাবে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাথা ঠিক থাকলে গোটা শরীর ঠিক থাকে। তখন কেউ আর দুর্নীতি বা অপরাধ করার দুঃসাহস দেখাবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা লেজ ধরে টান দেব না, আমরা কান ধরে টান দেব ইনশা আল্লাহ। যারাই অপরাধ করুক, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরতলীর হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার-সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনার পর বাগেরহাটের এই জনসভায় যোগ দেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা জরুরি নয় যে জামায়াতে ইসলামীকেই দেশ শাসন করতে হবে। তবে এটি জরুরি যে দেশে সুশাসন থাকতে হবে। যারা দেশকে ভালোবাসে, তাদের হাতেই শাসনের দায়িত্ব দিতে হবে। পৈতৃক সূত্রে বা জমিদারি সূত্রে রাজনীতি এ দেশের মানুষ আর দেখতে চায় না। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সমাজের সকলের জন্য ন্যায়বিচার কায়েম করবে।’
বিদেশে পলাতক অর্থ পাচারকারীদের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ব্যাংক ডাকাত ও শেয়ার মার্কেট লুটেরারা অনেকে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে আলিশান বাড়িতে বসবাস করছেন। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন, তবে তাদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে জনগণের টাকা বের করে নিয়ে আসা হবে। সেই উদ্ধারকৃত টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা হবে।’
সমাজে নারীদের সম্মান ও অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিকে মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেবেন, আর প্রতিপক্ষ হলে সেই মায়ের গায়ে হাত তুলবেন—ফ্যামিলি কার্ড আর গায়ে হাত তোলা একসাথে চলতে পারে না।’ সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জের ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আজকে দেখলাম একজন উন্মাদ হয়ে বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা কোথাও আসলে তাদের পোশাক খুলে ফেলবেন। আরেকজন মেয়ে হয়ে হিজাব ও নেকাব খুলে ফেলার হুকুম দিচ্ছেন। নির্বাচনের আগেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে নির্বাচনের পরে কী করবেন? এর নাম কি গণতন্ত্র?’
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সভ্য প্রত্যেকটি দেশকে আমরা বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। তবে অতীতে বন্ধুত্বের নামে কিছু ক্ষেত্রে প্রভুত্ব কায়েম হয়েছে এবং আধিপত্যবাদ আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। এই জাতি আর কোনো আধিপত্যবাদ বরদাশত করবে না।’
সমাবেশ শেষে তিনি বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন।


