অন্বেষণ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর একটি দ্রুত এবং কার্যকর সমাধান খুঁজছেন। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে একান্তে আলাপচারিতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই মনোভাব বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন। তিনি সেখানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতিতে কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা মার্কিন প্রশাসনের নেই।
বরং বর্তমান অবস্থাকে তিনি এই সংঘাতের ‘শেষ পর্যায়’ হিসেবেই বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে, সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চার থেকে ছয় সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করতে বলা হয়েছে।
এই সময়সীমা অনুযায়ী দ্রুত এবং কার্যকর সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রতি সরাসরি নির্দেশও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ফলে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে এবং পেন্টাগনে এই বিষয়টি নিয়ে এখন ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখিত এই দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপের পেছনে মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নানাবিধ অর্থনৈতিক চাপের কারণে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফলে, বিদেশের মাটিতে চলমান এই সামরিক সংঘাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার থেকে প্রশাসনের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাধারণ নাগরিকদের অসন্তোষ প্রশমিত করাই এখন হোয়াইট হাউসের প্রধানতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সম্ভাব্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ওই সফরের আগেই ইরানের সঙ্গে চলমান এই সামরিক উত্তেজনার চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন।
তবে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই দ্রুত সমাধানের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ঠিক কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সমর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই সংঘাতের সঠিক প্রকৃতি, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা বা হতাহতের কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রশাসনের মূল মনোযোগ এখন দেশের ভেতরের সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। ইরানের সঙ্গে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে।


