অন্বেষণ ডেস্ক : চলতি বছরেই সারা দেশে ব্যাপকভাবে কাঙ্ক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি জানান। মূলত জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে জোরালোভাবে কাজ শুরু হয়েছে। ফলে কোনো ধরনের সংশয় ছাড়াই বলা যায় যে, এ বছরেই এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। এছাড়া, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর এর বহুমুখী প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন মন্ত্রী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, বিএনপি সরকার যখনই দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তখনই তাদের সামনে বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এসে হাজির হয়। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এসব চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গেই মোকাবিলা করা হয়ে থাকে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের প্রভাবে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে বৈশ্বিক এই চরম অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশে এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। এটি বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতার একটি বড় প্রমাণ বলে তিনি দাবি করেন।
এছাড়া, সরকারের আগাম ও সঠিক প্রস্তুতির কারণেই চলতি বছর দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কোনো সংকট দেখা যায়নি। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সরাসরি উত্তর দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ‘জুলাই সনদে’ যেসব বিষয়ে সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে বর্তমান সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বাইরে থেকে অযাচিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা বিষয় সবসময় মেনে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নাও হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও যুক্ত করেন যে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা বা বিতর্কের মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত দেশের জাতীয় সংসদ। কারণ, পার্লামেন্টে গঠনমূলক আলোচনা ছাড়া বাইরে থেকে কোনো বিষয়ে অযথা চাপ সৃষ্টি করা মোটেও সমীচীন নয়। প্রয়োজনে সংসদেই সব পক্ষের সক্রিয় আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল বিষয়ের একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিশেষে, সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, মতবিনিময় এবং ওয়াকআউটের মতো ঘটনাগুলো অহরহ ঘটবেই। এগুলো মূলত সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব নিয়মতান্ত্রিক চর্চাই একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও প্রাণবন্ত পার্লামেন্টের অন্যতম প্রধান লক্ষণ বলে তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন।


