অন্বেষণ ডেস্ক : পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করেছেন, বিগত সরকারের শাসনামলে দেশে উন্নয়নের বদলে মেগা প্রকল্পের আড়ালে মূলত মেগা দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবুর দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষ এসব তথাকথিত মেগা প্রকল্পের কোনো সুফল ভোগ করতে পারেনি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জনগণের করের টাকায় সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ফলে মাত্র এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দশ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন, বর্তমান সময়ে কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে জেলা পরিষদ, পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন কিংবা এলজিইডি—যেখানেই অনিয়ম হোক না কেন, এর সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই বহন করতে হবে।
পাশাপাশি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যদি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাও হন, তবুও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করেন। অন্যদিকে, তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কিছু বাস্তব ও উদ্বেগজনক চিত্রও তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিশাল একটি তহবিল বর্তমানে একটি ব্যাংকে আটকে রয়েছে। এছাড়া দেশের আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক ব্যাপক লুটপাট এবং লাগামহীন অর্থ পাচারের কারণে গভীর সংকটে নিপতিত হয়েছে। বিগত সময়ের এই অব্যাহত অব্যবস্থাপনা দেশের আর্থিক খাতকে এক প্রকার পঙ্গু করে দিয়েছে।
এমন কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি মনে করেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া এই সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং দেশ প্রকৃত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।


